♦ আত্মার অবিনাশিতাবাদ "শির্ক" ব্যতীত কিছুই নয়...
.
আর্যদর্শনের মূল স্তম্ভ যে ধারণার ওপর বিশেষভাবে দাঁড়িয়ে আছে তা হল আত্মার অবিনাশিতাবাদ। আর্যদর্শন অনুযায়ী, ঈশ্বর হলেন পরমাত্মা এবং তাঁর অংশ থেকে আত্মা পৃথক হয়ে তা ধ্বংসশীল দেহে প্রবেশ করে। আর তাই আমরা আসলে আত্মা, দেহ নই। আর যেহেতু পরমাত্মা হল ঈশ্বর এবং ঈশ্বর অবিনশ্বর, তাই আত্মাও অবিনশ্বর (যেহেতু আত্মা, ঈশ্বর বা পরমাত্মার অংশ)।
.
ভগবতগীতা বলছে,
"সমস্ত শরীরে পরিব্যাপ্ত রয়েছে যে অক্ষয় আত্মা, জেনে রেখ তাকে কেউ বিনাশ করতে সক্ষম নয়।"
(ভগবতগীতা, ২:১৭)
.
এখান থেকেই শুরু হয়েছে ঈশ্বরের সাথে সৃষ্টির তুলনা। ইসলাম একে ঘোষণা করছে "শির্ক" হিসেবে এবং একে বর্ণনা করছে সর্বোচ্চ অপরাধ ও চূড়ান্ত পথভ্রষ্টতা রূপে।
.
আত্মা ঈশ্বরের অংশ হলে, প্রকৃতপক্ষে তিনি আর সৃষ্টিকর্তাই থাকবেন না, কেননা তিনি তখন তাঁর নিজ অংশের রূপান্তর করবেন মাত্র, শুন্য থেকে নতুন কিছু সৃষ্টি করার কোনো ক্ষমতাই তখন তাঁর থাকবে না।
.
মহান সৃষ্টিকর্তা তাই ঘোষণা করছেন,
.
"তারা তাঁর পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং নিজেদের ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনেরও তারা মালিক নয়।"
.
(মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ২৫:৩)
.
.
"তবে কি যিনি সৃষ্টি করেন তিনি তারই মত যে সৃষ্টি করে না? তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?"
.
(মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ১৬:১৭)
.
.
তাই আত্মা যে অবিনশ্বর নয়, এটা কেবল সৃষ্টিকর্তার একটি সৃষ্টি এবং তাই সৃষ্টিকর্তা ইচ্ছা করলে এই আত্মাকেও ধ্বংস করতে পারেন - এই উত্তরটি তিনি ঘোষণা করছেন সুস্পষ্টভাবে নিমোক্ত প্রকাশভঙ্গির মাধ্যমে:
.
.
"ভূপৃষ্ঠে (অস্তিত্বপূর্ণ) যা কিছু আছে সব কিছুই নশ্বর;
অবিনশ্বর শুধু তোমার প্রতিপালকের সত্ত্বা যিনি মহিমাময়, মহানুভব।
অতএব, তোমরা উভয়ে(মানুষ ও জ্বিন) তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?"
.
(মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ৫৫:২৬-২৮)
.
.
আহমেদ আলি সিরিজ/ইসলাম ও আত্মার অবিনাশিতাবাদ
Comments
Post a Comment