
কুফরি শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থার একখানা বড় মিথ্যাচার হল বর্তমান যুগ বিশ্বাস (belief) নয়, বরং বিজ্ঞান (science) ও যুক্তি (rationality) এর যুগ। এই যুগে আর ধর্মীয় বিশ্বাসকে ভিত্তি করা হয় না, কারণ ধর্ম মানেই অন্ধ বিশ্বাস; বরং বর্তমান যুগের সবকিছুর ভিত্তি হল এই বিজ্ঞান (science) ও যুক্তি (rationality)।
এই মতবাদের প্রচারকরা যে কতবড় মিথ্যাবাদী তা সামান্য একটু চিন্তা করলেই আপনি বুঝতে পারবেন।
তাদের মূল বক্তব্য হল এই যে, তাদের ভিত্তি বিশ্বাস নয়, বরং যুক্তি ও বিজ্ঞান!
কিন্তু আপনি at least কিছু বিশ্বাস না করলে একটা যুক্তি আর ব্যাখ্যাও দিতে পারবেন না।
উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি কোনো বই পড়েন, তাহলে আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে, হয় সেই বইটার বাস্তব অস্তিত্ব আছে, নয়ত সেই বইটার আসলে বাস্তব অস্তিত্ব নেই, সেটা আসলে একটা বিভ্রম বা স্বপ্নের মত, অথবা আপনার জ্ঞানেন্দ্রিয় (sense) এর ভুল উপলব্ধি!
আপনি খাবার খেতে গেলে আপনাকে বিশ্বাস করতে হচ্ছে যে, হয় খাবারটা আপনি নিজে খাচ্ছেন, অর্থাৎ আপনার বাস্তব অস্তিত্ব আছে (নয়ত বিশ্বাস করতে হবে, আপনার বাস্তব অস্তিত্ব নেই)। রেনে ডেকার্তস (René Descartes) বাবাজি বলেছিল যে, সে নাকি চিন্তা করতে পারছে, তাই তার অস্তিত্ব আছে (I think, therefore I am)। কিন্তু বাবাজির চিন্তারও বিপরীত থিওরি গৌতম বুদ্ধ নামে আরেক বাবাজি দিয়ে গেছেন যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে, "I am" মানে আমি যে আছি, আমি যে চিন্তা করছি ইত্যাদি এহেন সবই আসলে বিভ্রম, আমাদের আসলে পৃথক কোনো অস্তিত্ব নেই। তাহলে এখানে আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে, হয় আপনার পৃথক অস্তিত্ব আছে, নয়ত আপনার পৃথক অস্তিত্ব নেই। আর সেই বিশ্বাস বা belief এর ওপর ভিত্তি করেই আপনি যুক্তি, ব্যাখ্যা ইত্যাদি প্রদান করতে সক্ষম হবেন।
প্রতিটি বিজ্ঞানীই যখন কোনো বৈজ্ঞানিক থিওরি প্রদান করেন, তখন সেই বিজ্ঞানীকে এটা বিশ্বাস করতে হয় যে, এই থিওরিখানা সত্য এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই তাকে থিওরিখানার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হয়, গাণিতিক উপস্থাপনা (mathematical presentation) প্রদান করতে হয়! যদি তার থিওরি খানা তার পঞ্চইন্দ্রিয়ের পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধি (observation and realization through five senses) এর বিরুদ্ধে যায়, তবে তার থিওরি অথবা থিওরির গণিতকে (mathematics) তার পাল্টাতে হয়। সেক্ষেত্রে তিনি তার ইন্দ্রিয়ের উপলব্ধি যে সত্য, এই ধারণার ওপর প্রথমে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, আর তারপর তিনি তার এই বিশ্বাসের ওপর যুক্তি ও ব্যাখ্যা প্রদান করছেন।
তাহলে মিথ্যাবাদীরা এহেন বিজ্ঞান আর যুক্তি নিয়ে মিথ্যাচারখানা কেন করে? তার আসল কারণ হল, তাদের প্রবৃত্তির লালসা মিটাতে ধর্ম আর সৃষ্টিকর্তার ধারণা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে! তাই যুক্তি আর বিজ্ঞানের নামে তারা আজ ভণ্ডামি শুরু করে দিয়েছে!
وَلَوْ تَرَىٰٓ إِذْ وُقِفُوا۟ عَلَىٰ رَبِّهِمْۚ قَالَ أَلَيْسَ هَٰذَا بِٱلْحَقِّۚ قَالُوا۟ بَلَىٰ وَرَبِّنَاۚ قَالَ فَذُوقُوا۟ ٱلْعَذَابَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ
"হায়! তুমি যদি সেই দৃশ্যটি দেখতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সম্মুখে দন্ডায়মান করা হবে, তখন আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞেস করবেনঃ এটা (কিয়ামাত) কি সত্য নয়? তখন তারা উত্তরে বলবেঃ হ্যাঁ, আমরা আমাদের রবের (আল্লাহর) শপথ করে বলছি! এটা বাস্তব ও সত্য বিষয়। তখন আল্লাহ বলবেনঃ তাহলে তোমরা এটাকে অস্বীকার ও অমান্য করার ফল স্বরূপ শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো।"
(আল-কোরআন ৬:৩০)
.
.
===============================
- আহমাদ আল-উবায়দুল্লাহ
Comments
Post a Comment