প্রত্যেক জাতিই যুগে যুগে নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে ভেবেছে অন্য জাতি থেকে। ভারতীয় আর্যরা তাদের আর্য গোষ্ঠীর বাইরের লোকদের অনার্য হিসেবে "ম্লেচ্ছ", "যবন" ইত্যাদি হিসেবে অভিহিত করে তাদেরকে ছোট ও নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করত। আর একারণেই দেখবেন, এই চিন্তাধারা আজও হিন্দু সমাজে আছে যে, তারা মুসলিমদের এখনও ম্লেচ্ছ, যবন বলে গালি দেয়। নিজেদের ছাড়া বাকি সব গোষ্ঠীকে (মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি প্রভৃতি) তারা নীচু গোষ্ঠী মনে করে। হিন্দু পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে আমি ছোট বেলা থেকে এগুলো দেখতে দেখতে আর শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। তাদের অন্তরে অহিন্দু জাতির প্রতি বিদ্বেষ এমনতর যে, তারা এগুলো সম্মুখে সরাসরি প্রকাশ করে না, বরং এগুলো তারা নিজেদের মধ্যে বলে।
.
তবে হিন্দুদের এই বিদ্বেষ ধর্মের সাথে যতটা না জড়িত, তার থেকে বেশি জড়িত ভারত ভূখণ্ডের সাথে। আপনি যদি খেয়াল করে দেখেন, তবে হিন্দুরা মনে করে যে, আমরা মুসলিমরা হয়ত পাকিস্থান আর সৌদি আরবকে পুজো করি। আর তাই তারা আমাদের সহ্য করতে পারে না। অথচ সূরা ফাতিহাতেই আল্লাহ তাআলা আমাদের দুয়া শিখিয়ে দিচ্ছেন এরূপে,
.
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
.
"আমরা কেবল তোমারই ‘ইবাদাত করি এবং কেবলমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।"
(আল-কোরআন, ১:৫)
.
অর্থাৎ কোনো দেশকে পুজো বা বন্দনা করা ইসলামে অনুমোদিত নয়, বরং মুসলিমদের আনুগত্যের ভিত্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আনুগত্যের ওপর দাঁড়িয়ে।
কিন্তু হিন্দুরা ভারত ভূখণ্ডকে মাতৃজ্ঞানে পুজো করে, তবে অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডকে এরূপে পুজো করে না। আর তাই তারা এই ভারত ভূখণ্ডকেই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আর অন্যান্য জাতিগুলোকে তাদের থেকে নিম্নতর বলে আজও মনে করে। একারণে তারা মুসলিম, খ্রিস্টান প্রভৃতি গোষ্ঠীদের আজও মন থেকে মেনে নিতে পারেনি, যদিও তারা সকলে একই ভারত ভূখণ্ডে বাস করুক না কেন!!!
.
তারা এই শিক্ষা তাদের ধর্মশাস্ত্র থেকেই পেয়েছে যেটা তাদের বংশপরম্পরায় তাদের পূর্বপুরুষ থেকে আজও তারা লালন করে আসছে। মনুসংহিতায় উল্লেখ করা হয়েছে,
.
"(ব্রহ্মের) মুখ থেকে জন্ম নেওয়া (ব্রাহ্মণ), বাহু থেকে জন্ম নেওয়া (ক্ষত্রিয়), উরু থেকে জন্ম নেওয়া (বৈশ্য) এবং পায়ের পাতা থেকে জন্ম নেওয়া (শূদ্র) গোষ্ঠীর বাইরে আর যত গোষ্ঠী (পৃথিবীতে) আছে, তারা সবাই দস্যু; যদিও তারা ম্লেচ্ছদের ভাষায় কথা বলুক অথবা আর্যদের ভাষায় কথা বলুক।"
(মনুসংহিতা, ১০:৪৫)
.
"All those tribes in this world, which are excluded from (the community of) those born from the mouth (i.e Brahmin), the arms (i.e Kshatriya), the thighs (i.e Vaishya), and the feet (of Brahman) (i.e Sudra), are called Dasyus, whether they speak the language of the Mlekkhas (barbarians) or that of the Aryans."
.
[Manu Samhita, 10:45; source - http://www.sacred-texts.com/hin/manu/manu10.htm]
.
.
শুধু ভারতেই নয়, প্রায় প্রতিটি দেশের লোকেরাই নিজেদের অপরাপর গোষ্ঠীর থেকে নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করত।
আমেরিকানরা এখনও নিজেদের অপরাপর দেশ হতে শ্রেষ্ঠ মনে করে। তারা এখনও "America is only for the Americans" এই নীতিতে বিশ্বাস করে। আর তাইতো বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আমেরিকা ঠিক তখনই সাড়া দিয়েছে যখন তাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। নিজেদের স্বার্থেই রাশিয়ার সাথে ঠাণ্ডা লড়াই করে গেছে, আর নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থেই এখনও হাজার হাজার নিরীহ মুসলিমদের সমানে মেরে যাচ্ছে!!!
আমরা দেখি হিটলারকে যার সময়ে সকল জাতিই নিজেদের অপরাপর জাতি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ মনে করত আর ক্ষমতার কারণে হিটলার বিশ্বজয়ের বাসনা নিয়ে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে জার্মান জাতিকে একমাত্র শ্রেষ্ঠ জাতি ও বিশুদ্ধ রক্তের অধিকারী বলে দাবি করেছিল।
আমরা আরও দেখি শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর প্রভুত্ব যা কেবল নিগ্রোদের ওপরই নয়, বরং ইংরেজদের দ্বারা ভারত উপমহাদেশের ওপরও প্রায় ১৯০ বছর পর্যন্ত দেখা গেছে।
.
এখানেই আল্লাহ তাআলা বলেন,
.
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦ خَلْقُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَٰفُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَٰنِكُمْۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ لِّلْعَٰلِمِينَ
.
"তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি নিদর্শনঃ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতা। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।" (আল-কোরআন, ৩০:২২)
.
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে আহসানুল বয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে,
.
"পৃথিবীতে নানা ভাষা সৃষ্টিও আল্লাহর কুদরতের এক মহানিদর্শন। আরবী, তুর্কী, ইংরেজী, উর্দু, হিন্দী, পশতু, ফারসী, সিন্ধী, বেলুচী, ইত্যাদি বিভিন্ন ভাষা রয়েছে পৃথিবীতে। আবার প্রত্যেক ভাষার ভাব ও উচ্চারণভঙ্গীর (আঞ্চলিক) বিভিন্নতা আছে। সহস্র ও লক্ষ মানুষের মাঝেও একজন মানুষকে তার ভাষা ও উচ্চারণভঙ্গী দ্বারা চিনতে পারা যায় যে, এ ব্যক্তি অমুক দেশের বা অমুক এলাকার। শুধু ভাষাই তার পূর্ণ পরিচয় বলে দেয়। অনুরূপভাবে একই পিতা-মাতা (আদম ও হাওয়া) থেকে জন্মলাভের পরেও রঙ ও বর্ণে এক অপর থেকে পৃথক। কেউ কৃষ্ণকায়, কেউ শ্বেতকায়, কেউ নীলবর্ণের, আবার কেউ শ্যাম ও গৌরবর্ণের। অতঃপর কালো-সাদার মাঝেও এত স্তর রয়েছে যে, অধিকাংশ মানুষ এই দুই রঙে বিভক্ত হয়েও অনেক ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে এবং এক অপর থেকে একেবারেই ভিন্ন ও পৃথক মনে হয়। অতঃপর মানুষের চেহারার আকারও শ্রী, শরীরের গঠন এবং উচ্চতাতেও এমন পার্থক্য রাখা হয়েছে যে, বিভিন্ন দেশের মানুষকে আলাদাভাবে সহজেই চেনা যায়। একজন অপরজনের সাথে কোন মিল নেই; এমনকি সহোদর ভাই আপন ভাই থেকে আলাদা। এ সত্ত্বেও আল্লাহর কুদরতের পরিপূর্ণতা এই যে, কোন এক দেশের বসবাসকারী অন্য দেশের বসবাসকারী থেকে পৃথক হয়।"
(তাফসিরে আহসানুল বয়ান)
.
.
আল-কোরআন, ৪৯:১৩ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে আহসানুল বয়ানের এক স্থানে বলা হচ্ছে,
.
"আদম ও হাওয়া عليهما السلام থেকে। অর্থাৎ, তোমাদের সকলের মূল একই। তোমরা সকলে একই পিতা-মাতার সন্তান। অতএব কারো কেবল কুলমান ও বংশের ভিত্তিতে অহংকার করার কোন অধিকার নেই। কারণ, সকলের বংশ আদম (আঃ)-এর সাথে গিয়ে মিলে যায়।"
(তাফসিরে আহসানুল বয়ান)
.
ইসলামই সর্বপ্রথম পৃথিবীতে ব্যবহারিকভাবে মানবজাতির মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময় যখন কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে দাঁড়াই, তখন এটা দেখা হয় না কে ভারতীয়, কে পাকিস্তানি, কে বাংলাদেশি, কে আমেরিকান, কে ব্রিটিশ। এটা দেখা হয় না, কে ধনী, কে গরিব, কে কত বড় ব্যবসায়ী বা, কে কত কম উপার্জনের পেশায় নিয়োজিত। নামাজের কাতারে প্রতিটি ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট সমান।
.
এমনকি হজ্জ্বের সময় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন বর্ণের মানুষের সমাগম ঘটে একই ময়দানে যেখানে সকলের পোশাক হয় একই রকম। এরূপ সমতার বিধান পৃথিবীতে আর কোথায় কোনকালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে???
.
ইসলামে না আছে কোনো জাতিভেদ, না আছে কোনো বর্ণভেদ, না আছে কোনো বংশের অহংকার, না আছে কোনো পেশার গর্ব। ইসলামে বিচারের মানদণ্ড একমাত্র "তাকওয়া" ।
.
একারণেই আল্লাহ তাআলা সূরা হুজুরাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করছেন,
.
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَٰكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَٰكُمْ شُعُوبًا وَقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوٓا۟ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ ٱللَّهِ أَتْقَىٰكُمْۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
.
"হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার (একারণে নয় যে, তোমরা একে অপরকে ঘৃণা করবে)। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে অধিক 'তাকওয়া' এর অধিকারী (অধিক আল্লাহ ভীরু, ন্যায়পরায়ণ, ধার্মিক ইত্যাদি)। আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব কিছুর খবর রাখেন।"
(আল-কোরআন, ৪৯:১৩)
.
অর্থাৎ পৃথিবীতে বিভিন্ন রূপে মানুষের জাতি ও গোত্রে বিভক্তির কারণ হিসেবে আল্লাহ তাআলা বলছেন যে, যাতে করে আমরা পরস্পরের সাথে ভালভাবে পরিচিত হতে পারি। আমাদের মধ্যে যে ভাষা, বর্ণ ইত্যাদির বৈচিত্র্য রয়েছে, সেগুলোকে ভালভাবে বুঝতে পারি, শিখতে পারি আর আল্লাহর সৃষ্ট এই বৈচিত্র্য থেকে অভিভূত হয়ে আল্লাহকে শুকরিয়া দিতে পারি। একারণে নয় যে, আমরা নিজেদের বৈচিত্র্যের কারণে পরস্পর ঘৃণা, বিদ্বেষে লিপ্ত হই।
.
আর এজন্যই প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে বলেন,
.
"সকল মানুষই আদম এবং হাওয়া থেকে এসেছে। একজন আরবের কোনো অনারবের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব নেই। এমনকি কোনো অনারবেরও কোনো আরবের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্বেতকায় কোনো ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব নেই কৃষ্ণবর্ণের কোনো ব্যক্তির ওপর, এমনকি কৃষ্ণবর্ণের কোনো ব্যক্তিরও শ্রেষ্ঠত্ব নেই শ্বেতকায় কোনো ব্যক্তির ওপর; কেবল যা দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব বিচার্য হবে তা হল তাকওয়া (ধার্মিকর্তা, ন্যায়পরায়ণতা, সৎকর্ম প্রভৃতি)।"
.
[আহমাদ ২২৯৭৮/হাদিসের মান: সহিহ;
source - https://islamqa.info/en/answers/182686/is-the-arab-muslim-better-than-the-non-arab-muslim]
.
.
ইসলামের এরূপ সমতায় মুগ্ধ হয়ে স্বামী বিবেকানন্দ পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছেন,
.
"মহম্মদের ধর্ম আবির্ভূত হয় জনসাধারণ এর জন্য বার্তারূপে। তাঁহার প্রথম বাণী ছিল-'সাম্য'। একমাত্র ধর্ম আছে-তাহা প্রেম। জাতি বর্ণ বা অন্য কিছুর প্রশ্ন নাই। এই সাম্যভাবে যোগ দাও! সেই কার্যে পরিণত সাম্যই জয়যুক্ত হইল। সেই মহতী বাণী ছিল খুব সহজ সরলঃ স্বর্গ ও মর্ত্যের স্রষ্টা এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী হও। শূন্য হইতে তিনি কিছু সৃষ্টি করিয়াছেন। কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিও না।"
.
(স্বামী বিবেকানন্দ রচনাবলী/৮ম খণ্ড/মহাপুরুষ-প্রসঙ্গ/মহম্মদ)
.
.
"[Mohammedanism] came as a message for the masses. ... The first message was equality.... There is one religion — love. No more question of race, colour, [or] anything else. Join it! That practical quality carried the day.... The great message was perfectly simple. Believe in one God, the creator of heaven and earth. All was created out of nothing by Him. Ask no questions...."
.
[The Complete Works of Swami Vivekananda/Volume 1/Lectures And Discourses/Mohammed;
Source - https://en.m.wikisource.org/wiki/The_Complete_Works_of_Swami_Vivekananda/Volume_1/Lectures_And_Discourses/Mohammed]
.
.
================
#আহমেদ_আলি
Read the previous part here: http:// uniqueislamblog.blogspot.com /2017/11/ permission-of-adultery-and-fornication.html ?m=1 => Condemning physical relationship outside marriage: Generally physical relationship outside marriage is condemned in Hindu Philosophy. Bhagabat Gita says, "There are three gates leading to this hell-**lust**, anger, and greed. Every sane man should give these up, for they lead to the degradation of the soul." (Bhagabat Gita, 16:21) ['Bhagabat Gita As It Is' by His Divine Grace A.C. Bhaktivedanta Swami Prabhupada] This verse indicates that lust or desire outside marriage can lead one to hell if it is not maintained properly. It is further mentioned in Yajur Veda, "O God, **cast aside a lover**, **who cohabits with another's wife** ; **a paramour having illicit connection with a domestic woman** ; **an unmarried elder brother suffering from the pangs of passion** ; younger brother who has married before his elder to ...
Comments
Post a Comment