অবৈধ প্রেম কেন সঠিক নয় - এটা নিয়ে কখনও নিরেপক্ষভাবে ভেবে দেখেছন?
.
ইসলামিক বিধান অনুযায়ী এরূপ প্রেম হারাম। কিন্তু যদি ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিই, তাহলে কেন বলা যাবে যে, এহেন প্রেম সঠিক নয়??
.
চলুন কিছুটা ভিন্নভাবে ভেবে দেখি...
.
.
অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রেমে সাধারণত মেয়েরা নয়, বরং ছেলেরাই বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে। কারণ কোনো মেয়ে কেবল সঙ্গ উপভোগ করে আর মজা নেয়, কিন্তু কোনো ছেলে কোনো মেয়ের ওপর দুর্বল হয়ে পড়ে!
তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো ছেলে যেভাবে কোনো মেয়ের প্রেমে পড়ে দুর্বলতা অনুভব করে, কোনো মেয়ে সেভাবে প্রেমে পড়ে দুর্বল হয় না। একারণে সেই মেয়ে আগে কেবল সঙ্গ উপভোগ করতে করতে যাচাই করে নেয় যে, সেই ছেলে তার জন্য নিরাপদ কিনা আর সেই ছেলেকে সে বিশ্বাস করতে পারে কিনা! কিন্তু তখনও সেই মেয়ে সেই ছেলেকে ভালোবাসে না, বড়জোর বন্ধু মনে করতে পারে! মেয়েরা মুখে এক কথা বলে, কিন্তু তাদের মনে থাকে আরেক কথা। তাই মেয়েদের মনে কী আছে, তা বোঝার বৃথা চেষ্টা না করাই ভালো। স্বার্থ ছাড়া কোনো মেয়ে এক পা-ও এগোবে না। আর নিজের স্বার্থের জন্য কোনো মেয়ে যেকোনো ছেলেকেই ব্যবহার করতে পারে। কেননা তারা অবাঞ্ছিত শারীরিক সম্পর্কের ফলে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক ফলাফলের ভয় করে। তাই যদি কোনো মেয়ে বলেও যে, সে কোনো ছেলেকে ভালোবাসে, তাহলে তার কথায় পুরোপুরি বিশ্বাস করা যুক্তিযুক্ত নয়।
এই ধরণের প্রেমে কেবল আকাঙ্ক্ষা বাড়তেই থাকে, কিন্তু তা শত চেষ্টা করেও কমানো যায় না। এমনকি প্রেমের মানুষটার সাথে গোপনে শারীরিক আর মানসিক মিলনেও কামনা মেটে না, বরং তা আরও বাড়তে থাকে।
.
তাহলে এখান থেকে আপনি কী কী পাচ্ছেন?
.
১) অবৈধ প্রেম অপ্রয়োজনীয় আসক্তি তৈরি করে যা অবৈধ পথে মেটানোর কোনো সঠিক উপায় নেই।
.
২) আসক্তি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় তা উন্মাদনায় রূপ নেয় এবং শত শারীরিক ও মানসিক মিলনেও ব্যক্তি অবৈধ পথে শান্তি ও সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে না।
.
৩) অবৈধ প্রেমের ফলে প্রধানত পুরুষের শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা এবং নারীর স্বার্থপর মনোভাব বৃদ্ধি পায়। দুর্বলতা থেকে ব্যক্তি সিদ্ধান্তহীন হয়ে পড়ে এবং স্বার্থপরতা আত্ম-অহংকারের জন্ম দেয়।
.
৪) অবৈধ প্রেম হতে সৃষ্ট অতৃপ্ত কামনা, ক্রোধের জন্ম দেয় এবং ক্রোধ ব্যক্তির বুদ্ধি নাশ করে।
.
৫) অবৈধ প্রেমের আসক্তি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে পেতে অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে ব্যক্তি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে এবং ফলশ্রুতিতে তা মাদকাসক্তি ও আত্মহত্যায় রূপ নেয়।
.
লোকে প্রেম করে বলে - এটা নাকি স্বর্গীয়!
তাদের প্রেম স্বর্গীয় বলেই সেই প্রেম জান্নাতের সাথে নয়, বরং অশ্লীল দেব-দেবীর কাল্পনিক স্বর্গের সাথেই তুলনীয়!
তাদের প্রেম স্বর্গীয় বলেই সেই প্রেম থেকে তারা কেবল যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই পায় না!
.
.
♦ ইসলামিক সমাধান....
.
এখানে কেবল প্রধান পয়েন্টগুলো খুব সংক্ষেপে বলা হল। বিশদে জানতে ভালো কোনো ইসলামিক আলেমের শরণাপন্ন হোন।
.
১) প্রথম সমাধান - আন্তরিক তওবা:
.
এরূপ অবৈধ প্রেমের মনস্ততাত্ত্বিক রোগে কেউ পতিত হলে শয়তান তাকে হারাম পথে অটল থাকার জন্য উস্কাতে থাকে এই বলে যে, সে এখন আর ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু পাপ-পুণ্যের শাস্তি দেওয়া বা না দেওয়ার ক্ষমতার অধিকারী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শয়তান নয়, বরং একমাত্র আল্লাহ। যে কেউ ভুলবশত বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যত বড় পাপই করে থাকুক না কেন, একবার যদি সে তার ভুল বুঝতে পেরে সত্যিকার অর্থে আন্তরিক তওবা(আল্লাহর পথে ফিরে আসা) এর মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং সেই পাপকার্য থেকে বিরত থাকার স্বংকল্প গ্রহণ করে ইসলামের পথে অবিচল থাকে, তবে ইনশা আল্লাহ, আল্লাহ তার সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন।
.
মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করছেন:
.
قُلْ يَٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُوا۟ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا۟ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ
.
"বলঃ হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ - আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না; আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
(মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ৩৯:৫৩)
.
.
২) দ্বিতীয় সমাধান - হিজাব:
.
প্রেমের আসক্তি দূর করার পরবর্তী পদ্ধতি হল হিজাব। হিজাব কেবল পোশাক নয়, বরং এমন সকল প্রক্রিয়ার সম্মিলিত পথ যা অবাঞ্ছিত আকর্ষণ প্রতিরোধ করে। নারী-পুরুষের পোশাক, আচার-আচরণ ও চিন্তাতে সঠিক ইসলামিক পদ্ধতির অনুসরণ এবং ইসলামিক উপায়ে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বন্ধ করার মাধ্যমে হিজাবে পূর্ণতা আনার প্রচেষ্টা সম্ভব। মহান আল্লাহ ঘোষণা করছেন:
.
"বিশ্বাসী পুরুষদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের যৌন অঙ্গকে সাবধানে সংযত রাখে; এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। ওরা যা করে, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত।
.
বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করে। তারা যা সাধারণতঃ প্রকাশ থাকে তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য যেন প্রদর্শন না করে...."
(মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ২৪:৩০-৩১)
.
.
৩) তৃতীয় সমাধান - গান ও রোমান্টিক লেখা, ছবি ও ভিডিও বর্জন করা:
.
প্রেম এর আসক্তি ততক্ষণ মিটবে না, যতক্ষণ না কেউ রোমান্টিক গল্প, উপন্যাস, গান, ছবি, ভিডিও দেখা ও শোনা বন্ধ না করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
.
وَمَن تَابَ وَعَمِلَ صَٰلِحًا فَإِنَّهُۥ يَتُوبُ إِلَى ٱللَّهِ مَتَابًا
وَٱلَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ ٱلزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا۟ بِٱللَّغْوِ مَرُّوا۟ كِرَامًا
.
"যে ব্যক্তি তওবা করে ও সৎকাজ করে, সে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ অভিমুখী হয় এবং (তারাই পরম দয়াময়ের দাস) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না এবং অসার ক্রিয়াকলাপ(গান-বাজনা ও যাবতীয় রোমান্টিক ও অশ্লীল বিনোদন) এর সম্মুখীন হলে স্বীয় মর্যাদা রক্ষার্থে তা পরিহার করে চলে।"
(মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ২৫:৭১-৭২)
.
.
৪) চতুর্থ সমাধান - পাঁচ ওয়াক্ত সালাত:
.
ইসলামে সালাত বা নামাজকে বেশিরভাগ লোক কেবল প্রার্থনা ভেবে ভুল করে। কিন্তু এটা কেবল প্রার্থনা নয়, বরং প্রার্থনা সালাতের অনেকগুলি কার্যকলাপের মধ্যে একটি অংশ মাত্র। ইসলামিক সিস্টেমে প্রার্থনা সালাতের আরেকটি বৃহৎ কার্য "দুয়া" এর অংশ। কিন্তু এই প্রার্থনা ছাড়াও সালাতে রয়েছে মনঃসংযোগ, ব্যয়াম, পথনির্দেশ, সৃষ্টিকর্তার নিকট আত্মসমর্পণ, সৃষ্টিকর্তা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রশংসা, সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং আরও বহুবিধ কার্য যাকে এক কথায় সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে মন ও মস্তিষ্কের ইসলামিক প্রোগ্রামিং। দিনের যেকোনো এক সময়ের(ওয়াক্তের) সালাতে এই সকল প্রক্রিয়ার বেশ কয়েক বার পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং সর্বমোট বাধ্যতামূলক পাঁচ ওয়াক্তের সালাতে এই প্রক্রিয়াগুলোর বার বার পুনরাবৃত্তি সম্ভব হয়। এরপরও যে কেউ চাইলে অতিরিক্ত নফল সালাতের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াগুলোকে বার বার অভ্যাস করে সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য অর্জন করতে পারে। এর ফলে ব্যক্তির শরীর ও মনের অপ্রয়োজনীয় আসক্তি প্রশমিত হয় এবং ব্যক্তি অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে শুরু করে। তবে সালাত আন্তরিক হওয়া চাই যার মাধ্যমে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থেই এই সংকল্পে সালাত আদায়ে অগ্রসর হবে যে, সে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার স্মরণে সকল প্রক্রিয়া সম্পাদন করবে। মহান সৃষ্টিকর্তা ঘোষণা করছেন:
.
"...তুমি বল, ‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং তিনি তাদেরকেই তাঁর পথ দেখান যারা তাঁর অভিমুখী;
যারা বিশ্বাস করেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের হৃদয় প্রশান্ত হয়। জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্ত হয়।"
(মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ১৩:২৭-২৮)
.
.
৫) পঞ্চম ও ষষ্ঠ সমাধান - সওম বা রোযা পালন ও বিবাহ:
.
সওম বা রোযা বলতে অনেকে কেবল উপবাস বা না খেয়ে থাকাকে বোঝে। কিন্তু সওম বা রোজার মূল উদ্দেশ্য হল একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রবৃত্তির লালসাকে প্রশমিত করা। তাই সওম পালনে সমর্থ হলে সুনির্দিষ্ট ইসলামিক প্রক্রিয়ায় সওম পালনের মাধ্যমে নিজের আসক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ইনশা আল্লাহ।
.
আর সওমের পাশাপাশি আরও একটি সমাধান হল বিবাহ সম্পাদন যা অবৈধ সম্পর্কের অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষাকে বৈধ উপায়ে নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে পূরণ করতে সাহায্য করে।
.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
.
"হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম পালন করে। কেননা, সওম তার যৌনতাকে দমন করবে।"
.
[সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৬
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
Source - http://www.hadithbd.com/share.php?hid=29590]
.
.
এছাড়াও আরও কিছু সমাধান হয়ত কেউ আল্লাহর ইচ্ছায় নিজেই প্রাপ্ত হতে সক্ষম হবে যখন সে পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করে সঠিক পদ্ধতিতে ইসলামের নিয়মে নিজের জীবন পরিচালিত করতে শুরু করবে।
.
মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের অবৈধ প্রেমের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দান করুন এবং প্রকৃত সত্য ও শান্তির পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।
.
يَٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفْسُ ٱلْمُطْمَئِنَّةُ
ٱرْجِعِىٓ إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً
فَٱدْخُلِى فِى عِبَٰدِى
وَٱدْخُلِى جَنَّتِى
.
"হে প্রশান্ত চিত্ত!
তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।
অতঃপর তুমি আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।"
.
(মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ৮৯:২৭-৩০)
Read the previous part here: http:// uniqueislamblog.blogspot.com /2017/11/ permission-of-adultery-and-fornication.html ?m=1 => Condemning physical relationship outside marriage: Generally physical relationship outside marriage is condemned in Hindu Philosophy. Bhagabat Gita says, "There are three gates leading to this hell-**lust**, anger, and greed. Every sane man should give these up, for they lead to the degradation of the soul." (Bhagabat Gita, 16:21) ['Bhagabat Gita As It Is' by His Divine Grace A.C. Bhaktivedanta Swami Prabhupada] This verse indicates that lust or desire outside marriage can lead one to hell if it is not maintained properly. It is further mentioned in Yajur Veda, "O God, **cast aside a lover**, **who cohabits with another's wife** ; **a paramour having illicit connection with a domestic woman** ; **an unmarried elder brother suffering from the pangs of passion** ; younger brother who has married before his elder to ...
Comments
Post a Comment